দ্বীন ও মানবতার সেবায়
রাসুল (সা.ﷺ) বলেন, “তোমরা জাহান্নাম থেকে বাঁচো। একটি খেজুর হলেও সদকা কর।” আল্লাহ বলেন, “হে মুমিনরা! আমি তোমাদের যে রিজিক দিয়েছি তা থেকে ব্যয় করো। সেদিনের পূর্বে, যেদিন থাকবে না ক্রয়-বিক্রয়, বন্ধুবান্ধব এবং কোনো সুপারিশ।”(সুরা: বাকারা, আয়াত: ২৫৪)
নিয়ম মেনে যেকোনো আমল নিয়মিত করা ছিল প্রিয় নবী (সা.ﷺ)-এর পছন্দের শীর্ষে। হজরত মাসরুক বলেন, “আমি আয়েশা (রা.)-কে জিজ্ঞাসা করলাম, নবীজি (সা.ﷺ)-এর কাছে কোন আমল সবচেয়ে প্রিয় ও পছন্দনীয় ছিল?” তিনি বললেন, “নিয়মিত আমল।”(বুখারি: ৬৪৬১) আর কেনইবা নিয়মিত আমল তাঁর প্রিয় হবে না, অথচ স্বয়ং আল্লাহ তাআলার কাছেও তা সর্বাধিক প্রিয়।
আয়েশা (রা.) বলেন, “রাসুল (সা.ﷺ)-কে জিজ্ঞাসা করা হলো, ‘আল্লাহর কাছে কোন আমল সর্বাধিক প্রিয়?’ তিনি উত্তর দিলেন, “যে আমল সর্বদা করা হয়, চাই তা কম হোক।”(বুখারি: ৬৪৬৫)
আরেক হাদিসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, “তোমরা সত্যের ওপর অবিচল থাকো, মধ্যমপন্থা অবলম্বন করো এবং সুসংবাদ গ্রহণ করো। কেননা, কাউকে তার আমল জান্নাতে নিয়ে যেতে পারবে না।” সাহাবায়ে কেরাম (রা.) বললেন, “আপনাকেও না?” তিনি বললেন, “না, আমাকেও আমল জান্নাতে নিয়ে যেতে পারবে না। তবে হ্যাঁ, আল্লাহ তায়ালা আমাকে আপন রহমত দ্বারা পরিবেষ্টিত করবেন। মনে রেখো, আল্লাহ তায়ালার কাছে সবচেয়ে পছন্দের আমল হলো যা নিয়মিত করা হয়, যদিও তা পরিমাণে অল্প।”(মুসলিম : ২৮১৮)
এখানে স্পষ্ট যে, দান বা মানবসেবায় নিয়মিত থাকা এবং একে জীবনযাপনের অংশ হিসেবে গ্রহণ করাই প্রকৃত সাফল্য। তাই সদস্য হওয়ার মাধ্যমে আপনি নিয়মিত দ্বীন ও মানবতার সেবায় অংশগ্রহণের সুযোগ পাবেন। নিয়মিত ছোট ছোট দান, সময় এবং শ্রম একদিন বড় অর্জনে পরিণত হবে। এই পথে চললে আপনি শুধু মানুষের পাশে দাঁড়াতে পারবেন না, বরং আল্লাহর সন্তুষ্টিও অর্জন করতে পারবেন।
আমাদের এই উদ্যোগের সদস্য হয়ে আপনিঃ
১. রাসুলুল্লাহ (সা.) এর দেখানো পথ অনুসরণ করে দানের মধ্য দিয়ে সমাজ উন্নয়নে অংশগ্রহণ করবেন।
২. আল্লাহর নির্দেশ অনুযায়ী রিজিকের একটি অংশ ব্যয় করে পরকালীন সাফল্যের পথ সুগম করবেন।
৩. নিয়মিত ভালো কাজ করার অভ্যাস গড়ে তুলবেন, যা আপনাকে আধ্যাত্মিক উন্নতির পথে নিয়ে যাবে।
৪. একটি সমাজ সচেতন ও দানশীল কমিউনিটির অংশ হয়ে মানবিক মূল্যবোধকে শক্তিশালী করবেন।